পশ্চিম জাভায় পাহাড়ধসে প্রাণ গেল ২৩ নৌ-সেনা সদস্যের, নিখোঁজ আরও বহু
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৬
টানা ভারি বৃষ্টির পর ভয়াবহ ভূমিধসে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা। দেশটির পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে অন্তত ২৩ জন নৌ-সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার ভোরে রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। নৌবাহিনীর ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গুল জানান, ইন্দোনেশিয়া–পাপুয়া নিউ গিনি সীমান্ত টহলের প্রশিক্ষণ চলাকালে চরম আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে পড়লে মেরিন সেনারা মাটির নিচে চাপা পড়েন।
পশ্চিম জাভার এই পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২০ জন বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘোষিত ২৩ সেনাসদস্যের মৃত্যু এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ অন্তত ৮০০ উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে নয়টি এক্সকাভেটর। ভূমিধসের পরপরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
জাভা দ্বীপে বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের চূড়ান্ত সময় চলায় জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মাটির আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
গত দুই মাসে এটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
সর্বশেষ এই ঘটনায় দেশটির সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বেসামরিক চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স