দুবাইয়ে বেনজীরের জামিনে মুক্তি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এমন খবর দেশের গণমাধ্যমগুলো তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রচার করেছে।
তবে বেনজীরের জামিনে মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সদরদফতরের এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন জানান, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি আমি দেখেছি এবং সদরদফতরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।
সেই নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেফতার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।
এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এসেছে, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।
পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।